*** এতদ্বারা সকল ছাত্রদের জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১৬ /০৯/২০১৭ তারিখ থেকে ৮ম শ্রেণির চূড়ান্ত মানোন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

হোম

         

                                            খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা।

ভৈরব রুপসা বিধৌত সুন্দরী সুন্দরবনের মানস কন্যা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন্দর নগরী খুলনার প্রান্ত ছুয়ে সগৌরবে দাড়িয়ে শতাব্দীর ঐতিহাসিক স্বাক্ষর খুলনা জিলা স্কুল। এ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অস্পষ্ট। কারও মতে-১৮৫৬ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় । তখন এর নাম খুলনা হাই স্কুল। সে হিসেবে এটি খুলনা শহরের প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্কুল। আবার কারও মতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়  ১৮৭৩ সালে। সে হিসেবে খুলনা জিলা স্কুল শহরের প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় স্কুল (প্রথমটি খুলনার দৌলতপুরস্থ মুহসিন হাই স্কুল-১৮৬৭ ইং)। স্কুলটির প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কে বা কারা জড়িত ছিলেন তা ঠিক জানা যায় না। অনুমান করা হয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। তবে বেলফুলিয়া নিবাসী বাবু সাতুরাম মজুমদার তার নিজ অথ দিয়ে স্কুলের প্রথম পাকা ভবন তৈরী করেন। কয়লাঘাটা নিমক চৌকির দারোগা সাতুরাম মজুমদারের নামে উক্ত ভবনের একটি স্মৃতি ফলকও লাগান। যা আরও পরে নিমিত লাল দালানে সংযোজিত আছে। কারন প্রথম ভবনটির কোন অস্তিত্ব এখন আর নেই। স্কুল প্রতিষ্ঠার ৬-৭ বছরের এটি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিনত হয়। খ্যাতিমান শিক্ষক বাবু সারদা চরণ মিত্র ছিলেন তখন প্রধান শিক্ষক। অল্প সংক্ষক ছাত্র নিয়ে এ বিদ্যালয়ের কাজ প্রথম শুরু হলেও পরে বাড়তে থাকে। এর ফলাফলও হতে থাকে চোখে পড়ার মত। ইং১৮৮৩ সালের হান্টার কমিশনের রিপোট অনুযায়ী ১৮৮৫ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন ইংরেজ সরকার এ বিদ্যাপীঠের নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। তখন থেকে খুলনা জিলা স্কুল নামে এর নতুন পরিচয় হয়। সুদৃশ্য লাল ভবনটি সগেব ঐ সময়ের স্মৃতি বহন করছে। এটিই খুলনা জিলা স্কুলের মূল ভবন। মূল কাঠামোকে অক্ষুন্ন রেখে ভবনটিকে ১৯৯৫ সালে সংস্কার করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়টিতে এক কালে আরবী ফারসী ও উদু ভাষা চালু ছিল। ১৯৬৩ তদানীন্তন পূব পাকিস্তান সরকার টেকনিক্যাল শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশ্বে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নিমান করেন। যা বতমানে প্রশাসনিক ভবন নামে পরিচিত। সে সময় এই শ্রেণীর স্কুল ছিল খুব কম। তাই দূর-দূরন্ত থেকে ছাত্ররা পড়তে আসতো এই বিদ্যালয়ে। নিমীত হয় মুসলান ও হিন্দু ছাত্রদের জন্য আলাদা ছাত্রাবাস। জরাজীণ ছাত্রাবাসের ভবনগুলো প্রাচীনত্বের স্বাক্ষর বহন করছে। এ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু জারুকু নাথ সরকার। তিনি মাচ ১৮৮৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৮৮৫ পযন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল এই স্কুলে শিক্ষকতা করেন ১৯৯৩ থেকে ১৯৩৭ সাল পযন্ত। আব্দুল্লাহ উপন্যাসের লেখক ইমদাদুল হক কবি ফররুখ আহমদ সাবেক পাকিস্থান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী খান-এ-সবুর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি উপদেষ্টা জনাব এস.এ. করিম, বিচারপতি মকসুমুল হাকিম, কথাশিল্পী আনিস সিদ্দিকী প্রমুখ এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। প্রখ্যাত অভিনেতা নাদিম, প্রয়াত গোলাম মোস্তফা, উজ্জল, নাজমুল হুদা, প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ এ বিদ্যালয়ের লেখাপড়া করে ছিলেন। সরকারি সচিব জনাব আশরাফুল মকবুল, জনাব, শেখ ওয়াহিদুজ্জামানসহ অনেক সচিব ও যুগ্ম সচিব অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র ফ্রন্টের সঙগঠক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নিজাম মোহাম্মদ সিরাজুল আলম খান এ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। আরো অসংখ্য গুনিজন এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।